Home > job > INTERVIEW – A REAL MAN STORY .

INTERVIEW – A REAL MAN STORY .

INTERVIEW – A REAL MAN STORY .

ইন্টারভিউ ফেলে রাস্তায় পড়ে থাকা বৃদ্ধকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটলেন যুবক!

বৃদ্ধকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটছেন ওয়ালিদ আলী।ছবি: সংগৃহীত দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এক বৃদ্ধকে কোলে নিয়ে হাসপাতালে ছুটছেন যুবক। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে এমন একটি ভিডিও। আর সেই যুবকের ভূয়সী প্রশংসায় মেতেছে নেটবিশ্ব।

মানবতার উৎকৃষ্ট উদাহরণ মন্তব্য করে ভিডিওটি শেয়ার করেছেন লাখো নেটজনতা। এর কারণ চাকরিরইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছিলেন ওই যুবক। কিন্তু পথে রক্তাক্ত এক বৃদ্ধকে দেখে ইন্টারভিউয়ের কথা ভুলে যান তিনি।ভবিষ্যতকে পায়ে মাড়িয়ে আহত বৃদ্ধকে নিয়ে ছুটেন হাসপাতালে।

জানা গেছে গত রোববার এমন মানবিক ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মেচেদা এলাকায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, মহানুভবতা দেখানো ওই যুবকের নাম শেখ ওয়ালিদ আলী। তিনি কলকাতার কাঁথি নামক অঞ্চলের শ্রীরামপুরের বাসিন্দা।

প্রাণিবিদ্যায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রির সার্টিফিকেট নিয়ে চাকরির উদ্দেশে হন্যে হয়ে ঘুরছেন। তবে পেট চালানোর জন্য আপাতত হাওড়ার উলুবেড়িয়ার আল আমিন মিশন কলেজেখণ্ডকালীন শিক্ষকতা করছেন।

পাশাপাশি কলকাতার অরাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন স্টুডেন্টস্‌ ইসলামিক অর্গানাইজেশনের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, গত রোববার ওয়েস্ট বেঙ্গল কলেজ সার্ভিস কমিশনে অধ্যাপক পদে যোগদানের ইন্টারভিউ ছিল তার।পাঁশকুড়া বনমালী কলেজে সকাল সাড়ে ৯টায় ছিল সে ইন্টারভিউ।

কিন্তু পথে ওই বৃদ্ধকে বাঁচাতে গিয়ে সে ইন্টারভিউ আর দেয়া হয়নি তার। এ বিষয়ে আনন্দবাজারকে ওয়ালিদ বলেন, ‘সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে মেচেদায় ৪১ নম্বর জাতীয় সড়কে এক বৃদ্ধ পথচারীকে মোটরসাইকেল এসে সজোড়ে ধাক্কা দেয়।রাস্তায় পড়ে মারাত্মক জখম হন বৃদ্ধ।অথচ কেউ এগিয়ে আসছিল না।’

তিনি বলেন, ‘আমি ১০০-তে ফোন করেও পুলিশের সাড়া পাইনি।এরপর চাকরির মায়া ছেড়ে বৃদ্ধকে নার্সিংহোমে নিয়ে যাই। বৃদ্ধের চিকিৎসা চলাকালীন তার পরিজনকে ফোন করে খবর দিয়ে ডেকে আনি। ততক্ষণে সাড়ে ৯টা বেজে চাকরির ইন্টারভিউ দেয়ার সময় পেরিয়ে গেছে।১০টার পরে কেন্দ্রে পৌঁছে দেখি অনেকেই ইন্টারভিউ দিয়ে চলে গেছেন।’

শেষ পর্যন্ত ইন্টারভিউ দিতে পেরেছেন কিনা প্রশ্নে ওয়ালিদ জানান, ‘দেরি হওয়ায় আমাকে কেন্দ্রেই ঢুকতে দেয়া হয়নি। মোবাইল ক্যামেরায় তোলা বৃদ্ধের ছবি দেখিয়ে ঘটনার কথা জানানোর পরেওওই কলেজের অধ্যক্ষ আমাকে ইন্টারভিউ দেয়ার সুযোগ দেননি।’

তবে এতে আক্ষেপ নেই ওয়ালিদের। তিনি বলেন, ‘চাকরির পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ অনেক আসবে। কিন্তু একজন মানুষের প্রাণ চলে গেলে আর আসবে না। তাই এ নিয়ে আমার কোনো আক্ষেপ বা হতাশা নেই। আমি মনে করি সেদিন মানুষ হওয়ার পরীক্ষা দিয়েছি এবং ভালো পাশ করেছি

কুরআন ও বিজ্ঞানের আলোকে সমুদ্র ও মহাসমুদ্র : প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী

কুরআন ও বিজ্ঞানের আলোকে সমুদ্র ও মহাসমুদ্র প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী প্রো-ভিসি, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম। সূচনা মহাগ্রন্থ আল-কুরআন ১৪’শ বছর পূর্বে অহির মাধ্যমে নাযিলকৃত মানবজাতির জন্য পথের দিশা সম্বলিত আল্লাহ প্রদত্ত সর্বশেষ আসমানী কিতাব।

এই কিতাব পূর্বের নবী, রাসূল এবং অন্যান্য আসমানী কিতাবসমূহের স্বীকৃতির এক প্রামাণ্য দলিলও বটে। মানব জাতিকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্যে পারিবারিক, সামাজিক তথা রাষ্ট্রীয় জীবনের সার্বিক দিক নির্দেশনার পাশাপাশি বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার অসংখ্য তথ্য রয়েছে এ মহাগ্রন্থে।

এই গ্রন্থে রয়েছে অতীত সভ্যতার ঘটনাবলী এবং দিক-নির্দেশনা, যা মানব জাতি জানত না এবং দিক-নির্দেশনা ও তথ্যাবলী আছে ভবিষ্যতে কিয়ামত পর্যন্ত সময়ের এবং তারপরেরও এক অনন্ত মহাকালের যা মানুষের চিন্তার অতীত। পৃথিবী পৃষ্ঠের ৪ ভাগের ৩ ভাগ অংশ জুড়ে রয়েছে পানি।

এই পানির বিরাট অংশ দখল করে আছে সাগর ও মহাসাগর। এই সাগর শব্দটি পবিত্র কুরআনের ১১৪টি সূরার মধ্যে ২৫টি সূরায় ৪০ বার এসেছে। পাঠকের পড়ার সুবিধার জন্য এখানে ঐসব সূরা এবং

আয়াতসমূহের ক্রমিক নম্বরগুলো উল্লেখ করা হলো: ২:৫০, ১৬৪; ৫:৯৬, ১০৩; ৬:৫৯, ৬৩, ৯৭; ৭:১৩৮, ১৬৩; ১০:২২, ৯০; ১৪:৩২; ১৬:১৪; ১৭:৬৬, ৬৭, ৭০; ১৮:৬০, ৬১, ৬৩, ৭৯, ১০৯; ২০:৭৭; ২২:৬৫; ২৪:৪০; ২৫:৫৩; ২৬:৬৩; ২৭:৬১, ৬৩; ৩০:৪১; ৩১:২৭, ৩১; ৩৫:১২; ৪২:৩২; ৪৪:২৪; ৪৫:১২; ৫২:৬; ৫৫:১৯, ২৪; ৮১:৬; ৮২:৩।

কুরআনে বর্ণিত এইসব বক্তব্য বুঝতে হলে বিজ্ঞানধর্মী জ্ঞানের একান্ত প্রয়োজন। এই প্রবন্ধে কুরআনে বর্ণিত সাগর সম্পর্কে অনেক আয়াত থেকে মাত্র দু’টি আয়াতের আলোচনা করা হলো। প্রথম অংশে আলোচনায় রয়েছে সাগরের স্তরীভূত অন্ধকার (২৪:৪০) এবং দ্বিতীয় অংশে আলোচনায় রয়েছে দুই পূর্ব ও পশ্চিমের সংযোগকারী দুই সাগরের মিলন তথ্য নিয়ে (৫৫:১৭-২৫, ২৫:৫৩)।

সাগরের গভীর থেকে গভীরতায় বিভিন্ন রংয়ের শোষণ, আলোর প্রস্থান এবং অন্ধকারের আবির্ভাব কীভাবে? মহাগ্রন্থ আল কুরআন একটি অলৌকিক গ্রন্থ। মানবজাতি এবং জ্বীনদের পক্ষে এই কুরআনের মত একটি সূরাও রচনা করা সম্ভব নয়। এই গ্রন্থের বহু জায়গায় এই নিয়ে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ১৪’শ বছর ধরে এই চ্যালেঞ্জ কেউ গ্রহণ করতে পারেনি এবং কোন দিন পারবেও না।

কুরআনের অলৌকিকত্ব চিরদিনের এবং পৃথিবীর শেষদিন পর্যন্ত পৃথিবীর মানুষের কাছে এর অলৌকিকত্ব বিভিন্ন সময়ের বিজ্ঞানের আবিষ্কারের প্রেক্ষাপটে উদ্ভাসিত হতে থাকবে। বিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানের আবিষ্কারের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি গভীর সাগর-মহাসাগরের গভীরতা এবং তার বৈশিষ্ট্যাবলী।

পবিত্র কুরআনের ২৪নং সূরা নূরের ৪০নং আয়াতে আল্লাহ পাক বলেন, “অথবা (অবিশ্বাসীদের অবস্থা) মহাগভীর সমুদ্র তলের অন্ধকারের মতো, যাকে আচ্ছন্ন করে তরঙ্গের উপর তরঙ্গ, যার ঊর্ধ্বে মেঘপুঞ্জ, গাঢ় অন্ধকার স্তরের উপর স্তর, যদি একজন মানুষ হাত বাড়ায় তা আদৌ সে দেখতে পাবে না,

আল্লাহ যাকে আলো দান করেন না তার জন্য কোন আলো নেই”। কিং আবদুল আজিজ ইউনিভার্সিটির মেরিন জিওলজির বিশেষজ্ঞ প্রফেসর দূর্গা রাও (Professor Durga Rao) কে বিজ্ঞান বিষয়ক কুরআনের আয়াতসমূহ থেকে উপরের আয়াতের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল।

এ ব্যাপারে তিনি বলেন, বিজ্ঞানীরা সাবমেরিনের সাহায্যে বর্তমানে সাগরের তলদেশের অন্ধকার সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করছে এবং গভীর সাগরে ডুব দিয়ে থাকতে সক্ষম হয়েছে। যারা সমুদ্রে ডুব দিয়ে মুক্তার জন্য ঝিনুক কুড়ায় তারা শুধু কম গভীরতায় (২০-৩০ মিটার) ঐ কাজ করতে পারে।

মানুষ সমুদ্রের ২০০ মিটার গভীরতার অন্ধকার অংশে বাঁচতে পারে না। উপরের বর্ণিত আয়াত গভীর সমুদ্রের একটি চিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরেছে। শুধুমাত্র গভীর মহাসমুদ্রে ঐ রকম স্তরীভূত অন্ধকার সৃষ্টি হওয়ার পিছনে দু’টি কারণ অন্তঃর্নিহিত আছে। প্রথম কারণ: আলোক রশ্মি সাতটি রংয়ের (VIGROBY) সমন্বয়ে গঠিত।

যখনি আলোক রশ্মি পানিতে এসে পড়ে তখন তা সাতটি রংয়ে বিন্যাস্ত হয়ে ক্রমান্বয়ে শোষিত হয়ে সমুদ্রের গভীরে প্রবেশ করতে থাকে। প্রথম উপরিস্তরের ১০ মিটারে লাল রং শোষিত হয়। কোন ডুবুরী সমুদ্র পৃষ্ঠের উপরি ভাগের ৩০মিটার গভীরে যদি কোন আঘাত পেয়ে শরীর থেকে রক্ত বের হয় তা সে দেখতে পাবে না। কারণ ঐ গভীরতায় আলোর লাল রং পৌঁছায় না।

ঐ ভাবে দেখা যায় পরবর্তী গভীরতায় (৩০-৫০ মিটার) কমলা রং শোষিত হয়ে যায়। ৫০-১০০ মিটার গভীরতায় হলুদ রং শোষিত হয়। ১০০-২০০ মিটার গভীরতায় সবুজ রং এবং ২০০ মিটার এর বাইরে গভীরতায় নীল রং শোষিত হয়। বেগুনী এবং ইনডিগো ২০০ মিটার উপরে শোষিত হয়।

এভাবে একের পর এক সব রং শোষিত হয়ে যায়। অর্থাৎ সাগরের এক এক স্তরে এক এক রং শোষিত হওয়ার ফলে স্তরীভূত অন্ধকার সৃষ্টি হয় এবং তলার দিকে অন্ধকার ক্রমান্বয়ে বর্ধিত হয়ে সব শেষে কঠিন অন্ধকার আবির্ভূত হয়। ১০০০ মিটারের নিচে সম্পূর্ণ অন্ধকার।

দ্বিতীয় কারণ: বাঁধা প্রাপ্ত হওয়ার কারণে আলো লুকিয়ে যায়, ফলে অন্ধকার ঘনীভূত হয়। আমরা পৃথিবী পৃষ্ঠে যে আলোক রশ্মি দেখি তার উৎস হলো সূর্য। আকাশে মেঘ থাকলে এই আলোক রশ্মি প্রথম মেঘে বাঁধা প্রাপ্ত হয়। কারণ মেঘের মধ্যে পানির বিন্দুতে আলো শোষিত হয় এবং কিছু আলোক রশ্মিতে বিন্যস্ত হয়। যার ফলে মেঘের নিচে অন্ধকার স্তরের সৃষ্টি হয়।

তা হলো অন্ধকারের প্রথম স্তর। আলোক রশ্মি যখন সমুদ্রের পৃষ্ঠদেশে পতিত হয় তখন তা সমুদ্রের ঢেউয়ের কারণে প্রতিফলিত হয়ে উজ্জলতা প্রদর্শন করে। উজ্জলতার প্রতিফলনের মাত্রা ঢেউয়ের কোণের সংখ্যার উপর নির্ভর করে। ফলে তরঙ্গসমূহ আলোকে প্রতিফলিত করে উপরে নিক্ষেপ করার ফলে নিচে অন্ধকার সৃষ্টি হয়। সমুদ্রের গভীরে কেবল অপ্রতিফলিত রশ্মিসমূহ প্রবেশ করে।

এভাবে সমুদ্রকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় আলো ও গরম তাপমাত্রা সম্পন্ন উপরিভাগ এবং অন্ধকারসম্পন্ন গভীর স্তরসমূহ। বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কারণে এই দু’স্তর এক অন্যের থেকে পৃথক এবং উপরিভাগ তরঙ্গের মাধ্যমে গভীর স্তর থেকে পুনরায় পৃথক। সমুদ্রের অভ্যন্তরীণ তরঙ্গমালা ও অন্ধকারের স্বরূপ: সমুদ্রের অভ্যন্তরীণ তরঙ্গমালা সবেমাত্র ১৯০০ খৃষ্ট

উপহাস পেরিয়ে এখন বিসিএস ক্যাডার

মিলিটারি একাডেমির সাবেক শিক্ষার্থী মো. হালিমুল হারুন লিটন। তিনি ৩৭তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে প্রথম স্থান লাভ করেছেন। মানুষের উপহাস পেরিয়ে তিনি এতদূর এসেছেন। তার সফলতার গল্প লিখেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন-
পরিচয়: ১৯৮৯ সালের ২৫ জুন টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী উপজেলার বন্দচরপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মো. হালিমুল হারুন লিটন। বাবা মো. আজিবর রহমান অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। মা হালিমা বেগম গৃহিণী।ক্যাপ্টেন বলে: আগারগাঁও তালতলা সরকারি কলোনি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে জিপিএ ৫ পান। ১ম শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রথম স্থান অধিকার করা যেন তার অভ্যাস ছিল। ফলে ক্লাস ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই থেকে এখনো বন্ধুরা ক্যাপ্টেন বলে ডাকে। ৫ম ও ৮ম শ্রেণিতে পেয়েছেন ট্যালেন্টপুল বৃত্তি। এইচএসসি পরীক্ষায় ঢাকা কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়ে উচ্চ মাধ্যমিকের সফল ইতি টানেন।

ঢাবি ছেড়ে মিলিটারি একাডেমি: উচ্চ মাধ্যমিকের সফল সমাপ্তির পর বুয়েট, কুয়েট, চুয়েট, বুটেক্স, বাকৃবি ও ঢাবিতে ভর্তির সুযোগ পান। ভর্তি হন ঢাবির কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। কিন্তু ছোটবেলা থেকে সেনা-পুলিশের পোশাকের প্রতি আলাদা একটা টান ছিল। তাই ৩ মাস ক্লাস করেও পরে ভর্তি হন চট্টগ্রামের মিলিটারি একাডেমিতে। সেখান থেকে বিএসসি করেন এবং সেনা বাহিনীর অফিসার হন। মিলিটারি একাডেমিতে ভালো ফলাফল করায় পেয়েছেন কুদরত-এ-খোদা স্বর্ণপদক ও ওসমানী স্বর্ণপদক।

জীবনের মোড় যেখানে ঘোরে: সেনা বাহিনীর চাকরির দিনগুলো খুব ভালোই যাচ্ছিল। কিন্তু অনিবার্য কারণবশত সেনা বাহিনীর চাকরি থেকে অকালীন অবসরে যান। তারপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এমবিএ’তে। অবসরে যাওয়ায় অনেক মানুষ উপহাস করতো। কিন্তু লিটন দমবারপাত্র ছিলেন না। প্রিয়তমা স্ত্রী তানজিনা সুলতানাকে ওয়াদা দিয়েছিলেন, তিনি বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে মেধায় ১ম-১০ম স্থানের মধ্যে থাকবেন। সেই থেকে জোর প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। নিজেকে নিজে পুরস্কৃত করেছেন। ৩৭তম বিসিএস পরীক্ষা ছিল তার জীবনের প্রথম বিসিএস। বিসিএস পরীক্ষায় চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, তিনি পুলিশ ক্যাডারে ১ম স্থানই অধিকার করেছেন। এরআগে তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকে প্রিন্সিপ্যাল অফিসার পদে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেছেন।

লক্ষ্য যাদের বিসিএস: যারা বিসিএস ক্যাডার হতে চান তাদের উদ্দেশে লিটন পরামর্শ দিয়ে বলেন, নিজেকে কমিটমেন্ট দেন যে আমাকে বিসিএস ক্যাডার হতেই হবে। নিয়মিত পড়ালেখা করেন। রেফারেন্স বইয়ের প্রয়োজনীয় অংশগুলো পড়তে পারেন। লিখিত পরীক্ষার খাতায় প্রচুর ডাটা, চার্ট দিলে ভালো নম্বর পাওয়া যায়। দেশ-বিদেশ সম্পর্কে প্রচুর জানার চেষ্টা করতে হবে। এক্ষেত্রে নিয়মিত দেশি-বিদেশি পত্রিকা ও ‘মাসিক আর্টিকেলস অ্যান্ড কলামস’র মতো পত্রিকাগুলো পড়া যেতে পারে।

পতাকা মোড়ানো মৃতদেহ: লিটন বিসিএস ক্যাডার হওয়ায় তার বাবা-মা, স্ত্রী ও স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা অনেক খুশি হয়েছেন। বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে যোগদান করে সৎ পুলিশ অফিসার হয়ে দেশ ও জনগণের সেবায় নিজেকে শপে দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। তিনি বলেন, ‘আমার স্বপ্ন- আমি যখন মারা যাব; তখন আমার মৃতদেহ বহনকারী বাক্সটায় বাংলাদেশের পতাকা মোড়ানো থাকবে। রাষ্ট্রীয় সম্মানায় আমাকে বিদায় জানাবে সোনার বাংলাদেশ ও দেশের জনগণ।

যেভাবে পড়লে এক মাসেই ৪১ তম বিসিএসে চান্স সম্ভবঃ সুশান্ত পাল

এই লিখাটি মূলত বিসিএস প্রিলিমিনারি নিয়ে প্রিপারেশন খুব ভাল নয় কিংবা চাকরি বা অন্য পড়াশোনার পাশাপাশি বিসিএস দেবেন বলে ঠিক করেছেন তাদের জন্য।হাতে যদি ৩০-৪৫ দিন সময় থাকে তবে আত্মবিশ্বাসী হোন, প্রিলিতে উতরে যাওয়ার জন্য এটা পর্যাপ্ত সময়।আমি ৩৩, ৩৪, ৩৫ তম প্রিলি তিনটিতেই অংশ নিয়েছিলাম এবং উত্তীর্ণ হই সবগুলোতেই আল্লাহর রহমতে। আমার অভিজ্ঞতা থেকে লিখছি :সর্বদা জানতে ও জানাতে লাইক দিয়ে একটিভ থাকুন

এই সময় টাতে আপনি যে রিডিং ম্যাটেরিয়ালস গুলো কালেক্ট করবেন বিগত বছরের প্রশ্ন সম্ভার ( নীলক্ষেতে গেলেই পাবেন, সেগুলো সল্ভ সহ পাবেন, ৩০-৫০ টাকা নিবে দাম)এসিউরেন্স/ ওরাকল/ MP3 এদের যেকোন টার শর্ট একটা ডাইজেস্ট ৮০-১২০ টাকা নেবে, ১৫০-২০০ পৃষ্ঠার ছোট একটা বই, এখানে মূলত সাম্প্রতিক বছর গুলোতে পিএসসি র পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়নের উপর ভিত্তি করে সবগুলো বিষয় নিয়েই প্রশ্নোত্তর থাকে … বড় ডাইজেস্ট গুলো র মতন কিংবা সাবজেক্ট ওয়াইজ আলাদা বই গুলোর মতন অত ডিটেইল না। যারা অলরেডি সাবজেক্ট ওয়াইজ আলাদা বই কিনে পড়েছেন তাদের এটা না কিনলেও চলবে … প্ফসর্স প্রকাশনী প্রিলির আগ দিয়ে একটা বই বের করে, স্পেশালি বিসিএস ক্যান্ডিডেট দের জন্য, এইটা খুব খুব খুব উপকারি …আমি ৩৫ তম প্রিলিতে কেবল মাত্র এটা পড়ে প্রিলি র প্রিপারেশন নিয়েছিলাম।কারণ একই সময়ে ৩৪ তম র ভাইভা চলছিল, ভাইভার প্রিপারেশন নিতে গিয়ে আলাদা করে ৩৫ এর প্রিলির জন্য পড়তে পারি নি । তবে কেউ এটা পড়েই প্রিলিতে টিকে যাবেন সেই আশা করবেন না ।

আমার ক্ষেত্রে ভাগ্য এবং আগের দুই প্রিলির হালকা পাতলা প্রিপারেশন এর কারণে আমি কেবল এটার ভরসা করে গিয়েও উতরে যেতে পেরেছিলাম ।দাম নেবে ৫০ টাকা, তবে এটার চাহিদা প্রচুর থাকে বিধায়, ক্রাইসিস ক্রিয়েট হলে অনেক বেশি দামেও কেনা লাগতে পারে…যে মাসে পরীক্ষা হবে সে মাসসহ তার আগের ৩-৪ মাসের কারেন্ট এফেয়ার্স/ কারেন্ট ওয়ার্ল্ড …আমি ৩৫তম দিতে গিয়ে সবচেয়ে খারাপ করেছি ইংরেজি লিটারেচারে। এর থেকে আমার মনে হয়েছে এর জন্য আলাদা করে একটু প্রিপারেশন নেয়াটা উচিত। নীলক্ষেতে বিসিএস/ ব্যাংক কিংবা আরও এই জাতীয় পরীক্ষাগুলোর জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়/ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যারদের ইংরেজি সাহিত্যের উপর সামারি টাইপ ছোট ছোট বুকলেট টাইপ বই পাওয়া যায়,৩০-৫০ টাকা নেবে। এগুলোতে ইংরেজি সাহিত্যের বিভিন্ন কাল, কে কোন কালের সাহিত্যিক, কার লিখা কী ধর্মী, বিখ্যাত বই কে কি লিখে গেছেন এসব পাওয়া যাবে… আর ইংরেজি শব্দার্থ, বিপরীতার্থ এসব নিয়ে যাদের দুর্বলতা তারা সাইফুর্স/মেন্টর্স কিংবা বিসিএস+ব্যাংক প্রিপারেশনের জন্যেই কমন কিছু শব্দের বই পাওয়া যায়, সংগ্রহে রাখতে পারেন। ঘাবড়াবেন না বিসিএসে আপনাকে GRE স্ট্যান্ডার্ড Vocabulary দিতে যাবে না ।

কিভাবে পড়া উচিত?আমি শুরুতেই বলেছি লিখাটা হচ্ছে যাদের হাতে সময় কম, প্রিপারেশন এতোদিন খুব ভাল নিতে পারেন নি তাদের জন্য ।আমি শুরুতেই পরামর্শ দিব, আগে বিগত বছরের প্রশ্ন গুলো দেখুন, সেগুলো না পারলে/ না জানা থাকলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই । আমি সাজেস্ট করব, প্রথমে যে বই টির কথা বলেছি, সেটার বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ, গণিত, দুই ভাষার সাহিত্য এগুলো অবশ্যই পড়ে শিখে ফেলুন।যেগুলো কঠিন মনে হচ্ছে সেগুলো আপাতত অন্য কোন কালির কলম বা মার্কার দিয়ে মার্ক করে রাখুন। আন্তর্জাতিক কিংবা বাংলাদেশের জেলা/ থানা র সংখ্যা টাইপ খুব পুরাতন প্রশ্ন এড়িয়ে যেতে পারেন, মানে যেগুলো আপনি জানেন ২৮ তম বিসিএস এর সময় যেই সংখ্যা ছিল, এখন পরিবর্তন হয়েছে সেগুলো আর কি।আপনি যদি মিনিমাম ১০-১২ টি বিগত বিসিএস প্রিলির প্রশ্ন সল্ভ করে ফেলেন, তাহলে দেখবেন আপনার মধ্যে প্রিলির বিষয়ে খুব ভাল ধারণা চলে এসছে যে কী ধরণের প্রশ্ন হতে পারে। এখন আপনার একটু ডিটেইল পড়ার সময় । যদি না আপনি বাংলা সাহিত্য/ ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ছাত্রী হয়ে থাকেন, তবে আপনার জন্য বাংলা-ইংরেজি সাহিত্য জিনিসটা একটু কঠিন হবেই ।

অনেকের কাছে এগুলোর চেয়ে আন্তর্জাতিক বা বাংলাদেশ বিষয়াবলি কঠিন লাগে । আপনি যেহেতু বিগত বছরের প্রশ্নগুলো দেখেছেনই, আপনি নিজেকে বিচার করুন, কোনটিতে আপনার দুর্বলতা বেশি, সেটির উপরে জোর দিন।আমার একটা কমন অবজারভেশনঃ যারা ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা তারা সাধারণত সাহিত্যিক/কাল/বইপত্র এসবের নামে দুর্বল হয় । মেডিকেলে ৫ বছর পরে মানুষজন গণিত এর সাধারণ নিয়ম গুলো ভুলে যান, সাথে বাংলা ব্যকরণ তো আছেই ।আর্টস কিংবা কমার্স ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে যারা প্রথম বারের জন্য এটেম্পট নিচ্ছেন অনেকের গণিত আর ইংরেজিভীতি থাকে।তবে সবার কমন এক জায়গাতে প্রবলেম হয় কম বেশি তা হল বাংলাদেশ বিষয়াবলি আর আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি/ সাম্প্রতিক ঘটনাবলি । এর জন্য খুব ভালভাবে কারেন্ট এফেয়ার্সের সবগুলো সংখ্যা (যা উল্লেখ করলাম) আর কারেন্ট এফেয়ার্সের বিশেষ সংখ্যাটা পড়ুন ।কারেন্ট এফেয়ার্সের বিগত মাসের সংখ্যাগুলো কেন সংগ্রহ করতে বলেছি তার কারণ হল সেখানে পিএসসি/ ব্যাংক সমূহ কিংবা অন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের যে পরীক্ষাগুলো হয় সেগুলোর প্রশ্নও দেয়া থাকে । অনেক বছর এমন দেখা যায় যে সেসব প্রশ্ন থেকেও কিছু প্রশ্ন চলে আসে।

পরীক্ষার মাস খানেক সময় কাল থেকে খবরের কাগজটা পড়ুন, এখন তো এণ্ড্রয়েড এপসের মাধ্যমে বাসায় পত্রিকা না রেখেও পড়া যায়, বিশেষ দরকারি তথ্যগুলো মোবাইলেই পারলে নোট করে রাখুন । সেটাও কষ্ট লাগলে স্ক্রিন শট দিয়ে রাখুন ( যারা স্মার্ট ফোন ব্যবহার করছেন)।স্মার্টফোন ব্যবহার না করলেও সমস্যা নেই, দেখা যায় যারা পত্রিকার পাতা ঘেটে পড়েন কিংবা কোন জরুরি তথ্য দাগিয়ে রাখেন, কেটে সংগ্রহ করেন কিংবা ডায়েরি/খাতায় লিখে রাখেন তাদের সে জিনিস আরও বেশি মনে থাকে।একটানা কোন বিষয় পড়তে যাবেন না, বোরিং ফিল করবেন। যেমন আপনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস কম পারেন, এইটা নিয়ে এখন দিনের পর দিন পরে থাকলে দেখবেন পড়া এগুচ্ছে না। তো কি করা যাবেএটার ফাঁকে ফাঁকে সহজ লাগে কিংবা মজা লাগে এমন কিছু একটা পড়বেন। মনে থাকে না কিংবা বার বার পড়েও ভুলে যাচ্ছেন এমন হলে সেটা একটা কাগজে লিখে রাখুন। বাসায় পত্রিকা পড়লে যেখান থেকে কোন একটা গুরুত্বপূর্ণ ইনফো পেলেন সেটা আরেকটা জায়গায় লিখুন, দরকারে দেখে দেখেই লিখুন, সমস্যা নেই।গণিত ভীতি যাদের তাদের জন্য রেগুলার এক আধটু প্র্যাক্টিস করাটা জরুরি, অংক হাতে না করে শুধু দেখে গেলে অনেকেই ভুল করেন কিংবা পরীক্ষার হলে কনফিউজড থাকেন ।

ইঞ্জিনিয়ারিং/ম্যাথ/ফিজিক্স/স্ট্যাটিস্টিক্স ব্যাকগ্রাউন্ড এর যারা কিংবা যারা MBA করছেন তাদের জন্য এই সাব্জেক্ট খুব চ্যালেঞ্জিং না। ২ নম্বরে যে বইটার কথা বললাম ওখানের ম্যাথ সেকশনে এবং প্রফেসর্সের স্পেশাল বইতার ম্যাথ সেকশনেও দেখবেন পাটি গণিত আর জ্যামিতি/ত্রিকোণমিতি নিয়ে শর্টকাটে সূত্র কিংবা টেকনিক দেয়া আছে।সেগুলো এপ্লাই করে কিছু অংক করুন। কেবল সূত্র মুখস্ত রেখে হলে গেলে তালগোল পাকিয়ে ফেলার সম্ভাবনাই বেশি থাকবে ।
মানসিক দক্ষতা নিয়ে বাজারে বেশ কিছু বই এখন পাওয়া যায় তবে আমার কাছে এজন্য আহামরি কিছুই দরকার বলে মনে হয় নি, আগের বছরের প্রশ্ন গুলো সমাধান করলে আর এ বইগুলোর কথা বললাম ওগুলোর সংশ্লিষ্ট সেকশনে প্র্যাক্টিস করলে আপনি পারবেন সাধারণ বিজ্ঞানে অনেকে মনে করেন অনেক সোজা, পরে পচা শামুকের পা কাটে অনেকের…

এজন্য শর্ট ডাইজেস্ট টা আর প্রফেসর্সের বই টা পড়ুন ভাল মত । আর কারেন্ট এফেয়ার্স ও … বিভিন্ন প্রযুক্তির শর্ত কাট নাম জানেন কিন্তু ফুল মিনিং জানেন না, সেগুলোও জেনে নিন, বানান সহ কিন্তু ।সবশেষে আবারও বলব, ৩০-৪০ দিন প্রস্তুতির জন্য অনেক সময়। শুধুমাত্র আপনি মুখস্ত করে প্রিলি পাস করে আসবেন এটা সবার জন্য হয় না। বুদ্ধি খাটান, মনে রাখবেন বিসিএস প্রিলি তে আপনি ভুল দাগালে কিন্তু অর্ধেক মার্ক্স কাঁটা, সুতরাং ক্যালকুলেটেড রিস্ক নিতে হবে।আর আরেকটা কথা সবাইই জানেন, এই মার্ক্স আপনার মূল মার্ক্সের সাথে যোগ হবে না, সুতরাং এখানে উতরে যাবার জন্য আপনাকে দুনিয়ার সব কিছুই পারতে/ জানতে হবে না। অনেক এমসিকিউ প্রশ্ন আপনি না জেনেও প্রসেস অফ ইলিমিনেশন (কোন টি উত্তর হবে না সেটা বাছাই করে করেও) কিছু মার্কস পেতে পারেন ।

SOURCE – https://bdbarrta24.com/17291/?fbclid=IwAR2WObbE5eO32tmpuoJJB2Nv-0GCiEqG1ruPt0tiS5KoUiAKy8iEn4DDEZc

ফেইসবুকে চাকরির সর্বশেষ আপডেট পেতে এখনই Job Circular - নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি গ্রুপ ও

ফেইসবুকে চাকরির সর্বশেষ আপডেট পেতে এখনই Job Circular - নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি গ্রুপ ও